ইউটিউব ভিডিও বানাতে কি কি প্রয়োজন এবং আপলোড করার নিয়ম

ইউটিউব ভিডিও বানাতে কি কি প্রয়োজন এবং আপলোড করার টিপস

ইউটিউব এখন বিশ্বের সব থেকে বড়ো ভিডিও আপলোডিং সোশ্যাল মিডিয়া! ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে অনেকে টাকা আয় করছে ! আমরা আগেই জেনেছি কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হয়! চ্যানেল যেকেউ তৈরি করতে পারেন কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় ভিডিও তৈরির সময় তাই আজকে আমরা জানবো ইউটিউব ভিডিও বানাতে কি কি প্রয়োজন !

একটা কথা চিন্তা করুণ ইউটিউবে যারা ভিডিও আপলোড করে তারা কি কোন ট্রেনিং নিয়েছিল ভিডিও তৈরির একদম না! আসল সমস্যা হচ্ছে আমরা যেকোন ভাবে ভিডিও তৈরি করলেও সেই Video Edit করতে পারিনা! এখানে আমরা ভিডিও এডিটিং কিভাবে করে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় কি কি দরকার! এবং অন্যের ভিডিও ট্যাগ কিভাবে বার করবেন আর নিজের ভিডিওতে কেমন ট্যাগ দেবেন সেই বিষয় আলোচনা করবো !

ইউটিউব ভিডিও বানাতে কি কি প্রয়োজন

একটা ভিডিও তৈরি যেকোন ভাবে করা যায় কিন্তু যদি প্রফেশনাল ইউটিউবার হতে চান তাহলে ভিডিও তৈরি থেকে আপলোড পর্যন্ত যতো প্রয়োজনীয় জিনিস আছে সব কিছু নিজের কাছে রাখতে হবে ! ভিডিও বানাতে অনেক কিছু দরকার হতে পারে যেমন কিছু এপস, ক্যামেরা আরও অনেক জনিস আছে আপনি যেমন ভিডিও বানাতে চান সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখবেন।

  • ভিডিও বানানোর জন্য ভাল ক্যামেরা (Camera)
  • অডিও রেকডিং এর জন্য মাইক (Mic)
  • লাইট (Light)
  • Editing এর জন্য App বা Software
  • ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ড কালার
  • কপি রাইট ফ্রী ছবি, মিউজিক বা ভিডিও
  • Video Tag এর জন্য keyword research

ইউটিউব ভিডিও বানানোর জন্য ভাল ক্যামেরা

আজকাল সকলের কাছে স্মার্ট ফোন আছে এখন কম দামের স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা 8 MP (Megapixel) বা তার বেশি হয়ে থাকে! আপনি ইচ্ছা করলে আপনার মোবাইলের ক্যামেরা দিয়েই ভিডিও তৈরি শুরু করতে পারেন পরে যখন কিছু টাকা চলে আসবে তখন Canon EOS 200D ব্যবহার করতে পারেন ।

তবে ইউটিউব ভিডিও যেই ক্যামেরা দিয়ে বানান না কেন ক্যামেরা ধরে রাখার জন্য আপনার কাউকে প্রয়োজন হতে পারে! যদি আপনার বাড়িতে তেমন কেউ না থাকে তাহলে কম দামী একটা Aluminum Tripod কিনে নিতে পারেন!

অডিও রেকডিং এর জন্য ভাল মাইক (Mic)

ভিডিও তৈরি করার সময় অবশ্যই অডিও আলাদা ভাবে রেকর্ড করা উচিত আর এই অডিও রেকডিং আপনার মোবাইল দিয়েই করতে পারেন তবে মোবাইলের যেই অডিও রেকর্ডার আছে সেগুলো অতটা ভাল হয় না তাই প্লেস্টোর থেকে RecForge Audio Recorder ডাউনলোড করে নিতে পারেন! অনেক সময় দেখা যায় ভিডিও তৈরি করলে Background Noise আসে বা মুখের সামনে ফোন ধরে রেকড করা সম্ভব হয় না তার জন্য কম দামী একটা মাইক কিনে নিতে পারেন! আমার মতে ভাল মাইক বলতে Boya BYM1 শুধু আমিনা ৫০% ইউটিউবার এই MIC ব্যবহার করে তার কারণ এটা অনেক নয়েজ কম করে, এর কেবিল ২০ ফুট সহজেই কলারে আটকে ভয়েস রেকর্ড করা যায়!

ভিডিও বানানোর জন্য Light বা Bulb

ভিডিও কোয়ালিটি সুন্দর রাখার জন্য লাইট এর প্রয়োজন আছে যদি আপনি বাড়িতে ভিডিও বানান তাহলে যেকোন CFL Bulb বা LED Tube Light ব্যবহার করতে পারেন! CFL Bulb বা LED Tube Light খুব সহজে যেকোন দোকান থেকে পেয়ে যাবেন।

ভিডিও এডিটিং এর জন্য App বা Software

ভিডিও তৈরির সবথেকে গুরুত্ব পুণ্য পাঠ App বা Sotware কারণ যতো ভাল এডিট করতে পারবেন ততো সুন্দর ভিডিও তৈরি হবে! অনেক সময় ভিডিও থেকে এক্সট্রা পাট ডিলিট করতে হয় অথবা ভয়েস কন্ট্রোল করার জন্য এপস বা সফটওয়ার প্রয়োজন হয় নিচে কিছু নাম দেওয়া হলো যার সাহাযয্য়ে সহজে Video Editing করতে পারবেন।

Top 5 Video Editing Apps for Android

  • Kinemaster
  • PowerDirector
  • FilmoraGo
  • VivaVideo
  • Funimate

Top 5 Video Editing Software for PC

  • Adobe Premire
  • Camtasia
  • Filmora
  • Sony Vegas
  • Hitfilm Expreas

ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ড কালার

যেকোন ভিডিও বেশি সুন্দর দেখানোর জন্য তার ব্যাকগ্রাউন্ড ভাল হওয়া চায়! যদি আপনি বাড়িতে ভিডিও বানান আর বাড়ির ডিজাইন কালার ভাল থাকলে ঠিক আছে! তানাহলে সাদা পর্দা ব্যবহার করতে পারেন সাদা পর্দা video quality আরও সুন্দর করে! অনেক সময় ভিডিও তৈরি করার পরে ব্যাকগ্রাউন্ড কালার বা ডিজাইন চেঞ্জ করার ইচ্ছা হয়!

তাই যদি কোন ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউণ্ড পরিবর্তন করতে চান তাহলে সেই ভিডিওতে গ্রিন ব্যাকগ্রাউন্ড রাখবেন পরে ওপরের দেওয়া যেকোন Apps বা Software দিয়ে Video Background Remove করতে পারবেন! ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ড green screen রাখতে বাড়িতে কোন সবুজ পর্দা থাকলে ব্যবহার করতে পারেন অথবা অনলাইন থেকে Green Screen Cloth ২০০-৩০০ টাকায় পেয়ে যাবেন।

ইউটিউব ভিডিওর জন্য কপিরাইট ফ্রী মিউজিক

অনেক সময় দেখা যায় আপনার যদি শহর এলাকায় ঘর হয় বা আপনার ভয়েস একটু মোট হয় তাহলে ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা আওয়াজ আসে! এছাড়াও ভয়েসের একটা শো শো আওয়াজ থাকে! এমন ভিডিও কেউ পছন্দ করে না ! সেক্ষেত্রে আপনার ভয়েসের সাথে হালকা কোন পছন্দের মিউজিক যুক্ত করতে পারেন! ইউটিউবের জন্য কপিরাইট ফ্রী মিউজিক ডাউনলোড ওয়েবসাইট নিচে দেওয়া হলো!

  • Youtube Audio Library
  • Chosic
  • Bensound
  • Mixkit

ইউটিউব ভিডিওর জন্য কপিরাইট ফ্রী ফটো বা ভিডিও

অনেক সময় ভিডিওতে এমন কিছু ছবি বা ভিডিও দরকার হয় যেগুলো আমরা বানাতে পারিনা সেক্ষেত্রে আপনি কপিরাইট ফ্রী ভিডিও বা ফটো ব্যবহার করতে পারেন তার জন্য কোন ক্রেডিট দিতে হয় না আর নিচের সাইটে গুলো থেকে Animation Subscribe Buttons, Images, Png Photo, Video পেয়ে যাবেন ! তবে ফ্রীতে শুধু 15-30 সেকেন্ডের ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন !

  • Pixabay
  • Pexels
  • Unplash
  • Free Images
  • Shutter Stock

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার সময় গুরুত্বপূর্ণ টিপস

প্রথমে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন বিষয় জানেন বা পারবেন তাহলে সেই বিষয় নিয়েই ভিডিও তৈরি করতে পারেন যদি আপনি ভাল বিরিয়ানী বানাতে পারেন তাহলে রেসিপি বিষয় ভিডিও তৈরি করুণ আর চ্যানেল নামও তেমনি রাখার চেষ্টা করবেন যেই বিষয় ভিডিও বানাবেন ! এখন মনে করলাম আপনার ভিডিও তৈরি হয়ে গেছে আপলোড করার জন্য নিচের টিপস গুলো অবশ্যই ফলো করবেন।

  • Video Title
  • Description
  • Thumbnail
  • PlayList
  • Video Tags
  • Category

Video Title :- ভিডিওর নাম এমন রাখবেন যাতে নামের মধ্যেই ভিডিও কিওয়ার্ডস থাকে ! ইউটিউবে ১০০ ওয়ার্ডস পর্যন্ত Title Key ব্যবহার করা যায় তাই Long Tail Keywords ব্যবহার করবেন ! অনেকে টাইটেল রাখার সময় ইউটিউবে সার্চ করে প্রথম যেই চ্যানেল আসে তার টাইটেল কপি করে আপনি ভুলেও এমন করবেন না ! টাইটেল নিজেকে তৈরি করে নিতে হয় ! প্রয়োজনে keywordtool.io থেকে কিওয়ার্ডস রিসার্চ করে নেবেন অথবা ২-৩ টে ছোট টাইটেল দেবেন ১০০ ওয়ার্ডসের মধ্যে !

Description :- Video description খুব গুরুত্বপূর্ণ এখান ৫০০০ হাজার পর্যন্ত ওয়ার্ডস ব্যবহার করা যায় ! কিন্তু নতুন ইউটিউবার ভিডিও টাইটেল এখানে দিয়ে ছেড়ে দেয় মনে রাখবেন ভিডিও তৈরি করতে যতটা সময় দিয়েছেন তার অর্ধেক হলেও আপলোড করার জন্য সময় দিতে হবে! Video description এ ভিডিও বিষয় এবং ৫-৬ টা ভিডিও ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে! এছাড়া আপনার চ্যানেলের অন্য ভিডিও লিংক এখানে দেবেন যাতে সহজে একটা ভিডিও থেকে অন্য ভিডিওতে যাওয়া যায় !

প্রত্যেক ভিডিওতে অবশ্যই ৩-৪ টে (#) ট্যাগ ব্যবহার করবেন! # Tag শুধু ইউটিউবের জন্য না যেকোন সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট রেঙ্ক করতে সাহায্য করে! অনেক সময় Description দেখে ভিজিটর যোগাযোগ করতে চায় তাই ইমেইল বা মোবাইল নাম্বার থাকলে এখানে দেবেন ! এতে কোন কোম্পানী যদি Sponsership দিতে চায় সহজে যোগাযোগ করবে! এছাড়াও যদি আপনি Affilate Marketting করেন তাহলে তার লিংকও এখানে দিতে পারেন! ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার জন্য Description এর ভূমিকা রয়ছে!

Thumbnail :- ৯০% ভিডিও রেঙ্ক করে শুধু মাত্র থাম্বেল দেখে হয় তাই সুন্দর একটা থাম্বেল তৈরি করতে একটু সময় দেবেন! আর থাম্বেল এমন বানাবেন যাতে দেখেই ভিডিও বিষয় বোঝা যায়! ইউটিউব থাম্বেল সাইজ 1280×720 pexel হয়ে থাকে! যদি আপনি মোবাইল দিয়ে থাম্বনেইল তৈরি করেন তাহলে Photo Editor, Logo Maker Plus বা PicsArt ব্যবহার করতে পারেন! আর ল্যাপটপ দিয়ে করলে Canva ব্যবহার করবেন।

PlayList :- যদি আপনি অনেক রকম বিষয় নিয়ে ভিডিও আপলোড করেন তাহলে PlayList তৈরি করবেন যার সাহায্য়ে সহজে ভিডিও খুজে পাওয়া যেতে পারে ! আর কোন একটা বিষয় টার্গেট করে যদি ভিডিও বানান তাহলে playlist না বনলেও চলে !

Video Tags :- নতুন ইউটিউবার সব থেকে বেশি যেই ভুলটা করে থাকে Video Tags দিতে মনে রাখবেন Video Tags ছাড়া কোন দিন ভিডিও রেঙ্ক করবে না তাই অবশ্যই ট্যাগস ব্যবহার করতে হবে! মোবাইল দিয়ে ভিডিও আপলোড করলে TubeBuddy App প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড করে নেবেন! আর ল্যাপটপ দিয়ে করলে TubeBuddy Extensions ইনস্টল করে নেবেন! ইউটিউব YouTube Secret কোন ইউটিউবার এটা বলবে না TubeBuddy থেকে অন্যের ভিডিও ট্যাগ দেখা যায় এবং নিজের ভিডিও আপলোড করার সময় Suggestion Tags পাওয়া যায়! এছাড়াও ইউটিউব থাম্বেল এখান থেকে বানাতে পারবেন! আপনার ভিডিও ইউটিউবে কতো নাম্বার পজিশনে রয়ছে দেখতে পাবেন ! Video Seo কতো হয়ছে দেখতে পারবেন! ভিডিও আপলোড করার সময় সহজেই জানতে পারবেন কোন ট্যাগ দিলে ভিডিও রেঙ্ক করবে !

Category :- ক্যাটাগরি মনে ভিডিও বিষয় আপনি যেই বিষয় ভিডিও আপলোড করতে চান সেই বিষয়টা এখান থেকে অবশ্যই সিলেক্ট করে রাখবেন তাহলে ইউটিউব সহজে আপনার ভিডিও ক্যাটাগরি জানতে পারবে এবং তাদের কেই ভিডিও দেখাবে যারা এই Category নিয়ে ভিডিও পছন্দ করেন !

Video Card :- অনেকেই জানেন না এটা কি জিনিস ইউটিউবে কোন ভিডিও দেখার সময় খেয়াল করবেন ওপরে কোণে ( i ) লেখা একটা বটন থাকে যেখানে ক্লিক করে একটা ভিডিও দেখার সময় অন্য ভিডিওতে যাওয়া যায় এটাকেই Video Card বা ( i ) বটন বলে ! যদি একি রকম অন্য ভিডিও থাকে তাহলে অবশ্যই Video Card ব্যবহার করবেন!

End Screen :- প্রত্যেক ভিডিওতে অবশ্যই End Screen দিতে হবে ! নতুন ইউটিউবার এটা দিতে ভুল করেন ! খেয়াল করবেন ইউটিউবে কোন ভিডিও শেষ হলে স্ক্রিনের ওপরে সেই চ্যানেলের logo আর অন্য ভিডিও দেখায় এটাকে বলে End Screen আর এই logo তে ক্লিক করে চ্যানেলে Subscribe করা যায় এবং অন্য ভিডিওতে যাওয়া যায় !

কিছুকথা :-

একজন প্রফেশনাল ইউটিউবার হতে গেলে অবশ্যই শুরু থেকে রোজের একটা করে ভিডিও আপলোড করবেন এইভাবে টানা ৩ মাস ভিডিও আপলোড করলে আপনার মোট ভিডিও ১০০ কাছাকাছি হয়ে যাবে তখনি দেখতে পাবেন আপনার চ্যানেল রেঙ্ক করছে ! ২-১ টা ভিডিও তৈরি করে কখনো চ্যানেল রেঙ্ক করেনা !

আর ভিডিও আপলোড করার সময় ট্যাগ অবশ্যই দেবেন তার জন্য TubeBuddy ব্যবহার করবেন! যারা মোবাইল দিয়ে ভিডিও আপলোড করেন তাদের একটু সমস্যা হতে পারে কারণ অনেক অপশন মোবাইল দিয়ে আসে না এর জন্য YT Studio প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। অথবা কম দামী কোন Laptop বা Computter নিতে পারেন !

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *